ঢাকা,রবিবার ০৪ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
সিলেটে অস্ত্রোপচারে জোড়া লাগল তরুণের বিচ্ছিন্ন হাত
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

দুপুর আনুমানিক ২ টা। পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের বড় ভাইয়ের শ্যালকের দায়ের কোপে ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সদ্য এইচএসসি উত্তির্ণ শিক্ষার্থী দেলওয়ার হোসেন (১৮) এর।

তাতে অঙ্গহানির গ্লানি নেমে আসে দেলওয়ারের জীবনে। সেই সাথে অঝোর ধারায় রক্ত। অত:পর সকল কিছুকে পরাজিত করে সফল হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান। দীর্ঘ ৮ ঘন্টার অস্ত্রোপচার সফল হয়ে জোড়া লাগে হাত। নতুন জীবন ফিরে পায় এ তরুণ৷

শুক্রবার (৯ জুলাই) রাত ৯ টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত দেলওয়ারের অস্ত্রোপচার হয় সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলা মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে। সকাল ৬ টায় অস্ত্রোপচার শেষে তাকে রাখা হয় পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধিন আছেন। নাড়াতে পারছেন বিচ্ছিন্ন হাতের আঙুল।

দেলওয়ার হোসেন সিলেট জেলার গোয়ানঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের টেকনাগুল এলাকার আব্দুল মন্নানের তৃতীয় ছেলে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ৮ টায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ৬০২ নম্বর ক্যাবিনে গেলে কথা হয় ভাগ্যবান দেলওয়ারের চাচাত ভাই মো. রমিজ আলী শান্তর সাথে। আলাপচারিতায় তিনি নয়া শতাব্দীকে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।

জানান, শুক্রবার দুপুরে মারামারি হয়। তখন আমার চাচাত ভাইয়ের ডান হাতের কবজি কেটে ফেলা হয়। এর পর আমরা তাৎক্ষণিক হাতের বিচ্ছন্ন অংশ সাথে নিয়ে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে তারা হাত জোড়া লাগাতে পারবেন না বলে জানান। পরে এক আত্মিয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় ডা. মান্নান সাহেবের সাথে। তিনি আশ্বাস দিলে আমরা মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে আসি। এর পর রাত ৯ টায় অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানো হলে সকাল ৬ টায় শেষ হয় অপারেশন। এর পর থেকে ভাইকে পোস্ট অপারেটিভে রাখা হয়েছে। এখন উনার অবস্থা ভালো। হাতের আঙুল নাড়াতে পারছেন। আঙুল ৯০ শতাংশ সচল আছে এখন।

কত টাকা খরচ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৯ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। তবে অপারেশন বাবদ আড়াই লক্ষ টাকা লেগেছে।

এদিকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে অভাবনীয় এ অস্ত্রোপচারের তত্ত্বাবধান করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান। জটিল এ অস্ত্রপচারে তার সাথে ছিলেন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তওফিক আলম সিদ্দীকী, ডা. এন এ শোভন (এ্যানেস্থেসিয়া), ডা. পল্লব, ডা. মাসুদ হোসাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *