ঢাকা,রবিবার ০৪ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
সিলেটে রাজাম্যানশন নিয়ে ত্রিপক্ষীয় টানাটানি
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

সিলেটে পুস্তকবিপণী হিসেবে পরিচিত নগরীর জিন্দাবাজারস্থ রাজা ম্যানশনের। প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো তিনতলা মার্কেটটি এখন সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায়। ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে ১০ দিন বন্ধ রাখার পর ফের খোলা হলেও মার্কেটটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সিটি করপোরেশন, মার্কেটের মালিক এবং দোকান মালিক পক্ষের মধ্যে চলছে টানটানি।

সিটি করপোরেশন ও মার্কেট মালিক পক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে ভেঙ্গে ফেলতে চান মার্কেটটি। আর দোকান মালিক পক্ষের অভিযোগ কেবলমাত্র হয়রানির লক্ষ্যেই মার্কেটটিকে ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করা হচ্ছে। ত্রিপক্ষীয় এই টানাটানিতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন মার্কেটের প্রায় দুইশ’ ব্যবসায়ী। মার্কেটটির বর্তমান অবস্থা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধুয়াশা। মার্কেটটি আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ হলে বড় ভূমিকম্পে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

বাহ্যিকভাবে জরাজীর্ণ রাজাম্যানশনকে ২০১৯ সালে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট হিসেবে ঘোষণা করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। গত ২৯ ও ৩০ মে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিলেট নগরীতে পাঁচবার ভূমিকম্প অনুভূত হলে রাজাম্যানশনসহ ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি মার্কেট ও ভবন ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সিসিক।

এরপর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও সিসিকের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম মার্কেটগুলো পর্যবেক্ষণ শেষে খুলে দেয়া হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বাহ্যিক কাঠামো ও বর্তমান অবস্থান দেখে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তাদের মত দেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তারা সয়েল টেস্ট ও মার্কেটের নকশা দেখতে চান।

এদিকে, বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই মার্কেটের মালিক (জমিদার) হাছন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান শমসের রাজা চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে রাজা ম্যানশনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, মার্কেটটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্পে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় সিসিক মার্কেটটি বন্ধ ঘোষনা করেছিল। পরে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটি কিসের ভিত্তিতে সিসিক ফের খুলে দেয়ার অনুমতি দিল- সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্ন রাখেন শমসের রাজা। তিনি বলেন, মার্কেটের দোকান মালিকদের অসহযোগিতার কারণে মালিকপক্ষ মার্কেটটি ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করতে পারছেন না। তাই মার্কেটে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়-দায়িত্বও মালিকপক্ষ নেবে না।

এদিক, শমসের রাজা চৌধুরীর এমন বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে মার্কেটের দোকান মালিক সমন্বয় কমিটির সভাপতি আবদুল খালিক বলেন, মার্কেটের সয়েল টেস্টের রিপোর্ট বলছে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এরপরও সিসিক কিসের ভিত্তিতে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করছে তার কোন কারণ জানানো হয়নি। মার্কেটের মালিকপক্ষও ভিত্তিহীনভাবে কথা বলছেন। শমসের রাজা কোন যুক্তি ছাড়াই মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে ভেঙ্গে ফেলতে চাইছেন।

এদিকে, সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, ২০১৯ সালে রাজাম্যানশনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল মার্কেটটি পর্যবেক্ষন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এখন সয়েল টেস্টের রিপোর্ট ও নকশা দেখে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তাদের মতামত পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে মার্কেটটি সংস্কার করে ঝুঁকিমুক্ত করা যাবে কি-না। ঝুঁকিমুক্ত করা না গেলে মার্কেটটি ভেঙ্গে ফেলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *