ঢাকা,রবিবার ০৪ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
কালিহাতী এলেঙ্গা রিসোর্টে বকেয়া বেতনের দাবীতে কর্মচারীদের কর্মবিরতি
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

বকেয়া বেতনের দাবীতে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা রিসোর্টের কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছেন। মঙ্গলবার (২২জুন) সকাল থেকে রিসোর্টের অর্ধশত কর্মচারী তাদের কর্মবিরতি পালন করছেন। রিসোর্ট ম্যানেজার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। এদিকে, রিসোর্ট পরিচালনার বৈধতা এবং অনুমতির কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে রিসোর্টে দেখা যায়, অন্তত ৫২ জন কর্মচারী তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতনের দাবীতে কর্মবিরতি দিয়ে মূল গেইটে অবস্থান নিয়েছেন। এসময় রিসোর্ট ম্যানেজার তাদেরকে আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, বেশ কয়েক মাসের তাদের বেতন ও বোনাস বাকী রয়েছে। বার বার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোন কর্ণপাত করেননি। তাই কর্মবিরতি দিতে বাধ্য হয়েছি।

রিসোর্টের সিকিউরিটি ইনচার্জ ফয়েজ উদ্দিন বলেন, হঠাৎ করেই আমাদের বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা বেতন। এই  বেতনও না পেয়ে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। কর্মচারী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ১৮ বছর যাবত চাকরী করি। আমার বেতন ৪ হাজার ৭’শ টাকা। ২ মাসের বেতন ৭ মাসের সার্ভিস চার্জ বকেয়া রয়েছে। করোনার সময় এ বেতন দিয়ে আমাদের সংসার পরিচালনা করা খুবই কষ্টসাধ্য।

এদিকে, রিসোর্টের ভেতরে অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। ইতোপূর্বে রিসোর্টের ভেতরে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় গণ্যমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। এতে এলাকায় মানববন্ধন ও আন্দোলনও হয়েছিল।

কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সম্পূর্ণ বে-আইনীভাবে রিসোর্টটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে মালিকের বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা মিটিং এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অবৈধ কার্যক্রম চলে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শুনেছি রিসোর্টে মদ ও নারী সরবরাহের দায়ে এক কর্মকর্তাকে সম্প্রতি চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে।

এলেঙ্গা রিসোর্টের ম্যানেজার ফখরুল ইসলাম সাংবাদিক বলেন, কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে। রিসোর্ট পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা এমন প্রশ্নে ম্যানেজার বলেন, বিষয়টি বিবিএ কর্তৃপক্ষ জানেন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) বঙ্গবন্ধু সেতুর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, গত মে মাসে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ কিভাবে তারা রিসোর্ট পরিচালনা করছেন তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *