অল্প জমিতে অধিক ফসল পেতে চাষাবাদে সাহায্য করে সমলয়। এবার চলতি বোরো মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সমলয়ের ছোঁয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এই চাষাবাদ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে ১৫০ বিঘা জমিতে বীজতলা থেকে শুরু করে ধান মাড়াই পর্যন্ত ১২ লক্ষ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।
এই সমলয়ের ফলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ট্রে হতে ১৫-২০ দিন বয়সী বীজতলা তুলে জমিতে রোপন করে একদিকে যেমন কৃষকের সময় বাঁচছে,সাশ্রয়ী হবে খরচ আর অন্যদিকে ধান মাড়ায়ের ফলে নষ্ট হবেনা ফসল। এর ফলে বিঘা প্রতি ৩২-৩৫ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে কৃষক।
রাব্বি হোসেন নামের এক কৃষক বলেন,আগে শ্রমিক দিয়ে ধান মাড়ায়ের ফলে ধান নষ্ট হতো এবং ফলনও কম পাওয়া যেত। কিন্তু কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা এবং মাড়াইয়ের ফলে ধান অযথা নষ্ট হচ্ছেনা। এবং খরচ ও সময়ও কম লাগছে। এবার বোরোতে ধানে ধন্য আমরা রাণীশংকৈল বাসী।
আলী আকবর নামের এক কৃষক জানান,আমাদের পুরাতন পদ্ধতিতে ধান রোপনে বিঘা প্রতি খরচ হতো ১২’শ থেকে ১৩’শ টাকা আর ধান রোপন মেশিন দিয়ে রোপনে খরচ হয় ৩’শ থেকে ৩৫০ টাকা। ধান কাটায়ে বিঘা প্রতি খরচ হয় ৩-৪ হাজার আর এখন কম্বাইন্ড হারভেস্টার (আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র) মেশিনে খরচ হচ্ছে ১৫’শ থেকে ২ হাজার টাকা। এর ফলে একদিকে যেমন আমাদের খরচ কমেছে অন্যদিকে অল্প সময়ের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন,সনাতন পদ্ধতিতে বীজতলায় চারা উৎপাদন করে সেখান থেকে উঠিয়ে হাতের সাহায্যে জমিতে রোপন করার ফলে উৎপাদনের খরচ বেশি ব্যয় হত। আর কর্তনের সময় ফসল নষ্ট হতো।কিন্তু এবার কৃষিতে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতি চাষাবাদ করার ফলে গতবারের চেয়ে এবার বিঘা প্রতি ৫-৭ মণ ধান বেশি পেয়ে সেসব কৃষক লাভের মুখ দেখেছে ।
Leave a Reply