করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে কর্মরত প্রায় ২হাজার শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট ৫ কোটি টাকা প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলো ১৯৯২ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি নিয়ে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ১৪টি সরকারি কলেজের পাশাপাশি প্রায় ১০০টি কলেজের ২হাজার শিক্ষক একই কোর্স-কারিকুলামে ৭৫% শিক্ষকের বিএড ট্রেনিং দিয়ে আসছে।
এসব কলেজ থেকে ইতোমধ্যে কয়েক লক্ষ শিক্ষক ট্রেনিং নিয়ে জাতি গঠনে অবদান রাখছে। কেবল প্রশিক্ষণার্থীদের প্রদত্ত সামান্য কোর্স ফি’র উপর নির্ভরশীল কলেজগুলো দেশের স্বাভাবিক অবস্থায়ও নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারে না। কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকের খন্ডকালীন কাজের উপর নির্ভর করে সংসার চালাতে হয়। নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে বিগত ১৭/৩/২০২০ থেকে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের সকল প্রকার আযের উৎস বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষকেদের জীবন এখন চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে, তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। চক্ষু লজ্জায় তারা না পারছে কারো কাছে চাইতে, না পারছে ক্ষুধার জ¦ালা সহ্য করতে। তাদের অনেকেই অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। বাড়ি ভাড়াসহ অন্যন্য খরচের ঋণের বোঝা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী করোনা ভাইরাস ৫% এর নিচে না আসা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমতাবস্থায় কলেজগুলো বাড়ি ভাড়াসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। যদি সরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়া যায় তবে স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত কলেজগুলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণে জর্জিরিত হবে এবং ক্ষেত্রবিশেষ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে-যা কেনো ভাবেই কাম্য নয়। তাই, আমাদের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বেই বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্ত করে ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য জোড় দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় সারাদেশের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অজ্ঞাত কারণে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলেকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কোনো প্রণোদনা আজও পাইনি।
Leave a Reply